Collected from: prothomalo.com

এত দিন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে বিএনপির জোটগত বা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের যে চিন্তা ছিল, তাতে কিছুটা পরিবর্তন আসছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির কোনো নির্বাচনী জোট হচ্ছে না। কিছু আসনে সমঝোতা হবে। তারই অংশ হিসেবে শরিক দলগুলোর কয়েকজন শীর্ষ নেতার আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। এ ছাড়া শরিকদের ছাড় দেওয়া হবে, এমন কোনো আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে দিলে তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এর বাইরে কিছু আসনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকবে। যেখানে শরিক দলগুলো চাইলে বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে বিএনপি এমন চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অবর্তমানে এবারের জাতীয় নির্বাচন তাদের জন্য যতটা স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছিল, বাস্তবে ততটা নয়। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।

আসন ছাড়ে রক্ষণশীল যে কারণে

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জোটগত ভোটেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতায় শরিকদের আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে বিএনপিকে রক্ষণশীল ভূমিকা নিতে হচ্ছে। কারণ, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। ২০১৮ সালে অংশ নিলেও মাঠে থাকতে পারেনি। ফলে দলটিতে প্রার্থীজট তৈরি করেছে।

এ ছাড়া ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার নেতাদের একটা বড় অংশের মধ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা বিএনপির নেতৃত্ব উপেক্ষা করতে পারছে না।

আমরা যেটা করছি, এটা জোট নয়। বিগত যুগপৎ আন্দোলনে আমাদের যে কনসেপ্ট, ওইভাবে আমাদের কিছু আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

সব মিলিয়ে এবার যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বা সমমনাদের আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবার জোট করলেও ভোট করতে হবে নিজ দলের প্রতীকে। এমন সব কারণে শরিকদের মধ্যে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন প্রার্থীদের আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি

অবশ্য বিষয়টি এখনো আলোচনাধীন বলে জানিয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির কথা থেকে যেটা বুঝতে পেরেছি, সেটা হচ্ছে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কারও কারও আসনে তারা (বিএনপি) প্রার্থী দেবে না। এখন তারা কাকে কাকে ছাড়বে, সেটা তারা ঠিক করছে। এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত চারটি জোট বা নির্বাচনী ঐক্যের তৎপরতা দৃশ্যমান। যদিও বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনকে জোটবদ্ধ নির্বাচন বলছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যেটা করছি, এটা জোট নয়। বিগত যুগপৎ আন্দোলনে আমাদের যে কনসেপ্ট, ওইভাবে আমাদের কিছু আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’

প্রয়োজনে প্রার্থী সরিয়ে নেবে বিএনপি

শরিকদের একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি কত আসন শরিকদের ছাড়বে, তা পরিষ্কার নয়। ইতিমধ্যে বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তার আগে শরিক বা সমমনা কারও সঙ্গে বিএনপি আলোচনা করেনি। এ নিয়ে শরিকদের মনঃক্ষুণ্নতা আছে। কারণ, ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে কিছু আছে, যেখানে শরিকদের কেউ কেউ নির্বাচন করতে চান। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৫ (জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা), নড়াইল-২ (এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ), কুষ্টিয়া-২ (জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন) ও ঢাকা-১২ আসন (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক) উল্লেখযোগ্য।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও একমাত্র লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সম্প্রতি দলবল নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী করার লক্ষ্যে যোগদান করানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেই ঐক্য ধরে রাখা এবং আসন সমঝোতা নিয়ে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটি ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা করে মীমাংসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সাইফুল হক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে