Collected From : Prothomalo.com
৯০ আর ছোঁয়া হলো না। এর আগেই না–ফেরার দেশে চলে গেলেন বলিউডের প্রথম হি-ম্যান ধর্মেন্দ্র। ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। ইন্ডিয়া টুডে,মিড ডেসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বেঁচে থাকলে আগামী ৮ ডিসেম্বর ৯০ ছুঁতেন ‘শোলে’ অভিনেতা।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্র–দুনিয়ায়। তাঁর অসংখ্য অনুরাগী শোকাহত। অন্তর্জালে সবাই শেষশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন ধর্মেন্দ্রকে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্ত্রী হেমামালিনী, দুই ছেলে সানি ও ববি দেওল, আমিশা প্যাটেল, শাহরুখ খান, সালমান খানসহ অনেকে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে ধর্মেন্দ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। আর অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
তবে সোমবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তাঁকে কেবল রুটিন চেকআপ ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ধর্মেন্দ্রর টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘বয়সজনিত কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রাম নিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না।’ প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধিকে ধর্মেন্দ্রর ম্যানেজার জানিয়েছিলেন, ‘এখন উনি আইসিইউতে আছেন। লাইফ সাপোর্টের খবর ভুল। ওনার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’

ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী ও অভিনেত্রী হেমামালিনীও জানিয়েছেন, ‘ওঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। আমরা দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের আশঙ্কাই সত্যি হলো।
ধর্মেন্দ্রর জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, পাঞ্জাবের নসরালি গ্রামে। প্রকৃত নাম ধর্মসিং দেওল। ১৯৬০ সালে অভিনয়জীবন শুরু হলেও, এর আগে ধর্মেন্দ্রর পথ মোটেই সহজ ছিল না। এক সাধারণ গ্রামবাংলার ছেলেকে যে লড়াই করে তারকা হতে হয়েছিল, সেই কাহিনি সিনেমার চেয়েও নাটকীয়।

দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি ছিল প্রবল টান। পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে তরুণ বয়সেই ধর্মেন্দ্র চাকরি নেন ভারতীয় রেলে কেরানির পদে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯ বছর। এই সময়েই তাঁর প্রথম বিয়ে হয় প্রকাশ কউরের সঙ্গে। মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১২৫ রুপি। কিন্তু ধর্মেন্দ্র বুঝেছিলেন, রেলের চাকরিতে তাঁর মন বসছে না। তিনি জানতেন, জীবনের উদ্দেশ্য অন্য কোথাও—সিনেমায়, আলোয় আর ক্যামেরার সামনে। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা জিতে তাঁর মুম্বাইযাত্রা। সেখান থেকেই শুরু ইতিহাস। পরিচালক অর্জুন হিঙ্গোরানির ছবিতে ‘দিল ভি তেরা, হাম ভি তেরে’তে (১৯৬০) প্রথম সুযোগ পান ধর্মেন্দ্র। পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ৫১ রুপি। সেখান থেকেই শুরু এক কিংবদন্তির যাত্রা।

‘ফুল অউর পাথর’ (১৯৬৬) ধর্মেন্দ্রকে এক ঝটকায় বলিউডের অ্যাকশন নায়কে পরিণত করে। পরের দুই দশকে তিনি হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার এক অপ্রতিরোধ্য মুখ। ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘জাদুগর’, ‘ধর্ম বীর’, ‘দোস্ত’, ‘আনপড়’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’—প্রতিটি চলচ্চিত্রেই তিনি যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন।
ধর্মেন্দ্রর জীবনের বড় অধ্যায় হেমামালিনীকে ঘিরে। ১৯৮০ সালে এই জুটির বিয়ে হয়েছিল, যা বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। একসঙ্গে তাঁরা কাজ করেছেন ৩০টির বেশি ছবিতে। ‘সীতা অউর গীতা’, ‘ড্রিমগার্ল’, ‘শরিফ বদমাশ’, ‘জুগনু’, ‘দোস্ত’ আজও জনপ্রিয়। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সংসারে ধর্মেন্দ্রর দুই ছেলে সানি ও ববি দেওল—দুজনেই বলিউডের পরিচিত মুখ। হেমামালিনীর সংসারে তাঁর দুই মেয়ে—এশা দেওল ও অহনা দেওল।





