Collected From : Prothomalo.com

দুই মাসের মধ্যে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ পরিবর্তন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাদ দেওয়া গোষ্ঠীবিশেষের চাপের কাছে সরকারের নতি স্বীকারের আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত।

সারা বিশ্বেই প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাবিদ ও শিশু অধিকারকর্মীরা প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা যুক্ত করার কথা বলে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এটি নিশ্চিত করেই যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ধর্মভিত্তিক কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পরিসরে এ নিয়ে চাপ ও হুমকি তৈরি করে।

চাপের মুখে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা সরকারের একটি ভুল পদক্ষেপ বলেই আমরা মনে করি। এর আগেও আমরা বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপে সরকারকে পাঠ্যপুস্তক সংস্কার কমিটি বাতিল করতে দেখেছি। প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব গোষ্ঠীর চাপে সরকারকে বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ থেকে বারবার পিছু হটতে হচ্ছে, সরকার কি ধরে নিচ্ছে এই অংশ পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে?

ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাকে ঐচ্ছিক করাটাই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু হুমকি ও চাপের মুখে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাটা সরকারের একটি ভুল সিদ্ধান্ত। আমরা আশা করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে