২০২৬ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন—কোন দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু
২০২৬ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন—কোন দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু

Collected from: prothomalo.com

৫ ডিসেম্বর, শুক্রবার।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ওই দিন হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান। আর ড্রয়ের পরই সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা ছক আঁকতে শুরু করবেন, কোন পথে তাঁদের প্রিয় দল যেতে পারে ফাইনালে! নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কার মাথায় উঠবে বিশ্বজয়ের মুকুট, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু হবে আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—৩ দেশের ১৬টি ভেন্যুতে বসবে এবারের বিশ্বকাপ আসর। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এটি। দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮। আর ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে এক লাফে ১০৪!

অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে ছয়টির নাম অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে চারটি উঠবে ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে। বাকি দুটি আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ জিতে, তবে বড় দলগুলো প্রস্তুত। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা চাইবে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখতে, কিন্তু কাজটা সহজ হবে না। ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স আছে। আছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনও।

ইংল্যান্ড আর ব্রাজিলও আশায়—তাদের নতুন কোচ টমাস টুখেল ও কার্লো আনচেলত্তি দারুণ কিছু করে দেখাবেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হিসাবের বাইরে রাখা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

বিশ্বকাপে যে ট্রফির জন্য লড়বে দলগুলো

স্বাগতিক তিন দলকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আবার ম্যানচেস্টার সিটির গোল মেশিন আর্লিং হলান্ডকে নিয়ে গড়া নরওয়েই–বা কি চমক দেখায়, কে জানে!
ড্রয়ের আগেই অপ্টার সুপারকম্পিউটার করেছে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী। চলুন দেখে নেওয়া যাক সুপারকম্পিউটারের চোখে কোন দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু—

স্পেন: ১৭.০%

২০২৪ ইউরোতে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন ছিল চোখধাঁধানো দল। সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এমন আধিপত্য কমই দেখা গেছে।

‘লা রোহা’রা ৭ ম্যাচের ৬টিই জিতেছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে। শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানিকে হারাতে অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছিল। পুরো টুর্নামেন্টে তারা করেছে ১৫ গোল—দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা দলের চেয়ে ৪টি বেশি।

এরপরও গতি কমেনি। স্পেন টানা ৩১টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত (২৫ জয়, ৬ ড্র-টাইব্রেকার বাদে)। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের বিখ্যাত ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। ওই সময়টায় বিশ্বকাপ আর ইউরো দুটিই জিতেছিল স্পেন।

লামিনে ইয়ামালদের স্পেন এবার প্রতিভায় ভরপুর

আগামী মার্চে আন্তর্জাতিক ফুটবল আবার মাঠে গড়ানোর সময় স্পেনের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক হারের বয়স দাঁড়াবে তিন বছর। ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ স্কটল্যান্ডে ইউরো বাছাইয়ে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তাই সুপারকম্পিউটারের চোখে স্পেনই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে ফেবারিট, ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা তাদের।

স্পেন যদি শিরোপা জেতে, লামিন ইয়ামালের বড় ভূমিকা থাকবে, এটা বলাই যায়। ১৭তম জন্মদিনের পরদিনই ইয়ামাল ইউরো ফাইনালে খেলেছিলেন। পেলের রেকর্ড ভেঙে হয়েছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ/ইউরো ফাইনালিস্ট।

স্পেন চোখ রাখবে রদ্রির ফিটনেসেও। গত বছর হাঁটুর চোটের পর লিগে তিনি খেলেছেন মাত্র ২৯৪ মিনিট। বার্সেলোনার পেদ্রি আর গাভিও ফিরছেন চোট কাটিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই খেলোয়াড়েরা যদি সুস্থ থাকেন, ইউরোর পর বিশ্বকাপও স্পেনের হতেই পারে।

ফ্রান্স: ১৪.১%

২০২৬ বিশ্বকাপে ফরাসি ফুটবলের একটা যুগ শেষ হবে। ১৪ বছর পর জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়বেন দিদিয়ের দেশম। বিদায় বেলায় তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা কোচ হিসেবে নিজের জায়গাটা পাকা করে যেতে।

দেশমের অধীন ফ্রান্স খেলেছে ১৭৫টি ম্যাচ। কাতার ফাইনালে হারের পর তিনি আরেকবার সুযোগ পাচ্ছেন—ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপ জেতার। অধিনায়ক হিসেবেও তিনি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ১৯৯৮ সালে।

ফ্রান্সের বড় তারকা এমবাপ্পে

এবার দেশমের দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইতিমধ্যে দেশের হয়ে ৯৩ ম্যাচে ৫৫ গোল করেছেন। অলিভিয়ের জিরুর রেকর্ড ভাঙা এমবাপ্পের জন্য সময়ের ব্যাপার। বিশ্বকাপে ১২ গোল করেছেন, মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে। মেসিরও আছে ১৩ গোল। টুর্নামেন্টজুড়ে দুই মহাতারকার এই লড়াই হবে দেখার মতো।

দেশমের দলে আছেন ২০২৫ ব্যালন ডি’অর জেতা উসমান দেম্বেলেও। পিএসজিকে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে করেছিলেন ৩৩ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে তাঁর কাছে এমন কিছুই চাইবেন দেশম। দুই তারকাকে কীভাবে খেলাবেন ফরাসি কোচ, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

ইংল্যান্ড: ১১.৮%

বড় টুর্নামেন্টে ৬০ বছরের আক্ষেপ কি এবার ঘুচবে?

টমাস টুখেলের অধীন ইংল্যান্ড প্রথম (সম্ভবত শেষ) টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছে। জার্মান কোচ টুখেলের জন্য কাজটা সহজ, যে দলটা বারবার ঠিক শেষ সিঁড়িতে গিয়ে আটকে যায়, তাদের একটু ঠেলা দিয়ে ওপরে তুলে দেওয়া। এ কাজ করতে পারলে তিনি হবেন ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় কোচ, যিনি বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুটিই জিতেছেন।

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে গ্রুপ কে-তে ৮ ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। ৮ জয়। ৮ ক্লিনশিট। ১৯৫৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার পর আর কোনো দল এত ভালো ইউরোপীয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব কাটায়নি।

বেলিংহাম ও কেইনই ইংল্যান্ড দলের মূল তারকা

টুখেল নিশ্চয়ই চাইবেন দলকে আরও আক্রমণাত্মক করতে। হ্যারি কেইন গোল মেশিন হয়ে উঠেছেন, আগুনে ফর্মে তিনি। মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০ ম্যাচে ২৪ গোল। জুড বেলিংহাম, ফিল ফোডেন, কোল পালমার, এবেরেচি এজ—একঝাঁক তারকা টুখেলের হাতে। ইউরোর সেই ফ্যাকাশে ইংল্যান্ডকে বদলে দেওয়ার সব রসদই আছে তাঁর কাছে।

মূলকথা—ইংল্যান্ড এবার একটু বেশি ‘মজা’ দিতে পারে।

আর্জেন্টিনা: ৮.৭%

আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের চোখে মেসি দীর্ঘদিন ধরে ম্যারাডোনার ছায়ায় ঢাকা পড়ে ছিলেন। কাতার ২০২২—তাঁকে সেই ছায়ার বাইরে নিয়ে এসেছে। ৭ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট। গ্রুপ, শেষ ষোল, কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল, ফাইনাল—সব ধাপে গোল করে ইতিহাসে একা দাঁড়িয়ে। শট, সুযোগ তৈরি, ফাউল আদায়—তিন ক্ষেত্রেই ছিলেন সেরা। এক টুর্নামেন্টে এই তিন ক্যাটাগরিতেই শীর্ষে থাকার কীর্তি আছে শুধু আর একজনের—ম্যারাডোনা, ১৯৮৬।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে